বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দরপতন

ভেনিজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ কোটি ডলার মূল্যের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির চুক্তিতে পৌঁছেছে ওয়াশিংটন ও কারাকাস।

ভেনিজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ২০০ কোটি ডলার মূল্যের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির চুক্তিতে পৌঁছেছে ওয়াশিংটন ও কারাকাস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে দরপতন হয়েছে জ্বালানি তেলের। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ চুক্তির ফলে জ্বালানি বাজারে সরবরাহের চাপ আরো বাড়বে। এতে দীর্ঘমেয়াদে পণ্যটির দাম নিম্নমুখী থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্স।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল কমেছে ব্যারেলে ১১ সেন্ট। প্রতি ব্যারেলের মূল্য পৌঁছেছে ৬০ ডলার ৫৯ সেন্টে। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) ২৭ সেন্ট কমে প্রতি ব্যারেলের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৬ ডলার ৮৬ সেন্টে। উভয় বাজার আদর্শের দাম আগের দিনের তুলনায় ব্যারেলে কমেছে ১ ডলারের বেশি। মূলত চলতি বছর বিশ্ববাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহের প্রত্যাশায় দাম কমেছে পণ্যটির।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় তিন থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জ্বালানি তেল রফতানি করবে ভেনিজুয়েলা। এরপর সেগুলো বাজারমূল্যের ভিত্তিতে বিক্রি করা হবে। এ থেকে যে অর্থ আসবে তা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমার মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রিত হবে এবং নিশ্চিত করা হবে যেন তা ভেনিজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হয়। বর্তমানে চুক্তিটি বাস্তবায়নে কাজ করছেন যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি সেক্রেটারি ক্রিস রাইট। ভেনিজুয়েলা থেকে জ্বালানি তেল জাহাজে করে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে পাঠানো হবে।’

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, উভয় দেশের চুক্তির ফলে যেসব জ্বালানি তেলবাহী কার্গো আগে চীনে যেত এখন সেগুলোর গন্তব্য হবে যুক্তরাষ্ট্র।

চীনভিত্তিক আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হাইটং ফিউচার্সের বিশ্লেষক ইয়াং আন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভেনিজুয়েলার জ্বালানি তেল রফতানি প্রথমত দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ উদ্বৃত্তের পরিস্থিতিকে আরো প্রকট করবে।’

গত বছরের দুর্বল চাহিদা এবং ওপেক ও ওপেক-বহির্ভূত দেশগুলোর সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) জ্বালানি তেলের বাজারে দৈনিক ৩০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত উদ্বৃত্ত থাকতে পারে বলে প্রাক্কলন করেছেন মরগান স্ট্যানলির বিশ্লেষকরা।

ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও জ্বালানি তেল উত্তোলন পুনরুদ্ধার বিষয়ে গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষক দান স্ট্রইভেন ৪ জানুয়ারির এক নোটে জানান, দেশটির উত্তোলন পুনরুদ্ধার হলেও তা হবে ধীরগতির। এর জন্য ব্যাপক বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।

ব্যাংকটির হিসাব অনুযায়ী, ভেনিজুয়েলার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন যদি দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছায় তবে ২০৩০ সাল নাগাদ দাম ব্যারেলপ্রতি ৪ ডলার পর্যন্ত কমতে পারে।

গোল্ডম্যান স্যাকস ২০২৬ সালে ব্রেন্টের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৬ ডলার ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৫২ ডলারে নেমে আসার পূর্বাভাস দিয়েছে।

বর্তমানে ভেনিজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেল রফতানির পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে শেভরন। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও কোম্পানিটি দৈনিক এক-দেড় লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল সরবরাহ করে আসছিল। নতুন চুক্তির ফলে রিলায়েন্স, সিএনপিসি ও এনআইয়ের মতো অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানও পুনরায় ভেনিজুয়েলা থেকে জ্বালানি তেল সংগ্রহের সুযোগ পেতে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা কমলেও দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহ চাপের কারণে নিম্নমুখী থাকবে পণ্যটির দাম।

আরও